মানবদেহের পাকস্থলীতে থাকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষয়কারী একটি রাসায়নিক। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অ্যাসিডের পিএইচ মাত্রা এতটাই কম যে তা ধাতুর ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই অ্যাসিড পাকস্থলীর নিজস্ব টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না।
পাকস্থলীর ভেতরে থাকা মিউকাস বা শ্লেষ্মার স্তরই এ ক্ষেত্রে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। মিউসিন নামের বিশেষ প্রোটিন দিয়ে তৈরি এই আঠালো স্তর পাকস্থলীর দেয়ালকে অ্যাসিডের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি এতে থাকা বাইকার্বোনেট অ্যাসিডের তীব্রতা কমাতেও সহায়তা করে।
তবে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেলে তৈরি হতে পারে গ্যাস্ট্রিক, আলসার কিংবা মারাত্মক সংক্রমণ। বিশেষ করে কিছু ব্যাকটেরিয়া ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পাকস্থলীর মিউকাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ঝাল ও ধূমপান এড়িয়ে চললে পাকস্থলীর স্বাভাবিক সুরক্ষা অনেকটাই বজায় থাকে।



