নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সংঘর্ষের জেরে কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার রাতে ভারতের সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা ব্যবহার নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালে সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজন নিহত হন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে।
তৃতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের প্রতি ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ ন্যায্য ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে সুনসারি, সপ্তারি, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পারসা জেলাতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।


