চিকিৎসা শেষে আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের স্পিকার বলেন, গত এক সপ্তাহ তিনি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি কী করবেন, না করবেন সেটি আমি জানি না। তিনি রাষ্ট্রপতি, দেশের প্রথম ব্যক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এখানে কে পদত্যাগ করবে, না করবে তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র দেবেন। এরপর আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।”
সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, চিকিৎসাজনিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ায় এবং ব্যক্তিগত কিছু কাজ থাকায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরেছেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকারের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বা পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।



