আজ ১ জুন, দক্ষিণি ও বলিউড সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবনের ৫৬তম জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। তবে নিজের জন্মদিন উদযাপনের মাঝেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক চমৎকার তথ্য শেয়ার করেছেন অভিনেতা। জানিয়েছেন তাঁর ও স্ত্রী সরিতা বিরজের ২৭ বছরের দীর্ঘ ও সুখী দাম্পত্য জীবনের এক দারুণ রহস্য।
আর মাধবন জানান, তাঁদের এই দীর্ঘ ও সফল বৈবাহিক জীবনের পেছনে কিংবদন্তি পরিচালক মণি রত্নমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।
কী ছিল মণি রত্নমের সেই পরামর্শ?
বিয়ের পর মণি রত্নম মাধবনকে একটি বাস্তবমুখী উপদেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনেক দম্পতিই নিজেদের সম্পর্ককে অযথা কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের দীর্ঘ সময় আউটডোর শুটিংয়ে বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়। নতুন নতুন সহশিল্পীদের সঙ্গে পর্দায় ঘনিষ্ঠতা এবং একাকিত্বের কারণে অনেক সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
তাই মণি রত্নমের সরল পরামর্শ ছিল—সবসময় স্ত্রীকে নিজের কাছাকাছি রাখা এবং জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা পেশাগত জগৎ থেকে তাঁকে দূরে না রাখা।
পরামর্শ মেনে সুফল
মণি রত্নমের এই উপদেশকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন মাধবন। এরপর থেকে প্রায় সব আউটডোর শুটিংয়েই স্ত্রী সরিতাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতেন তিনি। মাধবনের ভাষ্যমতে, এর ফলে তিনি শুটিংয়ের দিনগুলোয় কখনো একাকিত্বে ভোগেননি। অন্যদিকে, সরিতাও সেটে উপস্থিত থাকার কারণে খুব কাছ থেকে দেখতেন কাজগুলো। ফলে তিনি সহজেই বুঝতেন যে রুপালি পর্দার রোমান্স কেবলই অভিনয়ের অংশ, বাস্তব জীবনের কোনো অনুভূতি নয়। এটি তাঁদের পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও মজবুত করেছে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল প্রেম
মাধবন ও সরিতার সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু বেশ সিনেমার মতোই। ১৯৯১ সালে ভারতের কোলহাপুরে ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন (পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট) ক্লাস নিতেন মাধবন। তখন সরিতা ছিলেন তাঁর ছাত্রী এবং বিমানবালা (এয়ার হোস্টেস) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কোর্সটি শেষ করে চাকরি পাওয়ার পর, কৃতজ্ঞতা জানাতে মাধবনকে একটি ডিনারে আমন্ত্রণ জানান সরিতা। সেই নৈশভোজ থেকেই শুরু হয় তাঁদের বন্ধুত্ব, যা পরে গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
দীর্ঘ ৮ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ১৯৯৯ সালে তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। ২০০৫ সালে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় পুত্র বেদান্ত মাধবন। বেদান্ত বর্তমানে একজন পেশাদার সাঁতারু হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
‘সে আমার সমান অংশীদার’
দীর্ঘ ২৭ বছর একসঙ্গে কাটানোর পরও তাঁদের ভালোবাসা যেন আগের মতোই সতেজ। মাধবন বলেন, “আমরা আর দশটা সাধারণ দম্পতির মতোই ঝগড়া করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সরিতা কখনোই ভাবেন না যে তিনি কেবল একজন তারকার স্ত্রী; তিনি আমার জীবনের সমান অংশীদার।”
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে অন্য এক বার্তায় মাধবন লিখেছিলেন, “তুমি আমাকে প্রতিদিন আরও ভালো একজন মানুষ হতে অনুপ্রাণিত করো।” আর মাধবন ও সরিতার এই বোঝাপড়া সত্যিই আজকের দিনে যেকোনো দম্পতির জন্যই এক বড় অনুপ্রেরণা।



