শোকের দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এনে দিলো স্বস্তির জয়। বিমান বিধ্বস্তে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেকের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশ যখন শোকাহত, তখন ক্রিকেটাররা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জিতে নিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ রানের রোমাঞ্চকর জয় পায় বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়েই তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল টাইগাররা।
ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। নিহতদের স্মরণে নিরবতা পালন করা হয়। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের মুখেও ছিল সেই শোকের ছাপ। কিন্তু মাঠে নামতেই তারা দেখিয়ে দিলেন, কঠিন সময়েও দেশের জন্য লড়াই করা যায়।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে উইকেটকিপার ব্যাটার জাকের আলি অনবদ্য ফিফটি (৫৫ রান) করে দলকে টেনে তোলেন। শেখ মেহেদি হাসান করেন কার্যকরী ২৫ বলে ৩৩ রান। শেষ দিকে জাকেরের ছক্কার ঝড়ে বাংলাদেশ পৌঁছে ১৩৩ রানে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। মাত্র ১৫ রানে হারায় ৫ উইকেট! শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিবের আগুন ঝরা বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারায় সফরকারীরা। পাকিস্তানের প্রথম ছয় ব্যাটার মিলে করেন মাত্র ১৮ রান—যা এই সংস্করণে তাদের ইতিহাসে এক লজ্জাজনক পরিসংখ্যান।
প্রায় একা হাতে ম্যাচে ফেরান ফাহিম আশরাফ। ৩২ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসে জাগিয়ে তোলেন অসম্ভবের সম্ভাবনা। শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ২৮ রান। রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত শেষ ওভারে শেষ পর্যন্ত থেমে যায় পাকিস্তানের লড়াই ১৯.২ ওভারে ১২৫ রানেই।
শোকাহত জাতিকে সাময়িক স্বস্তি ও গৌরবের অনুভূতি এনে দিল লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। মাত্র পাঁচ সিরিজে তিনটি সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া লিটনের জন্য এটি একটি বড় অর্জন।
ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ ম্যাচে ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন জাকের আলি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৩৩/১০ (২০ ওভার)
জাকের ৫৫, মেহেদি ৩৩; দানিয়াল ২ উইকেট, সালমান মির্জা ২ উইকেট।
পাকিস্তান: ১২৫/১০ (১৯.২ ওভার)
ফাহিম ৫১, আফ্রিদি ১৯; শরিফুল ৩ উইকেট, মেহেদি ২ উইকেট।



