রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর পরিকল্পনায় মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছমেস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুল হককে ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অথচ ছমেস উদ্দিনের কবরে স্থাপিত সাইনবোর্ডে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘স্ট্রোক’ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাইম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক জানান, গত বছরের ২ আগস্ট পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে প্রবেশ করলে তিনি দৌঁড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর কমিটির সদস্যসচিব রহমত আলী, সাবেক সমন্বয়ক শাহরিয়ার সোহাস ও সাবেক শিক্ষার্থী শাহিন আলম।
সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয় ছিলেন, আজ তারাই বিপদের মুখে। মাহমুদুল হকের গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।”
সমাবেশে মাহমুদুল হকের স্ত্রী মাসুবা হাসান বলেন, “আমার দুই সন্তান- একজন অষ্টম শ্রেণির, অন্যজন মাত্র ছয় বছর বয়সী। বাবার সঙ্গে দেখা করে ছোট সন্তান বলছে, ‘আমার বাবার কী অপরাধ?’ আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে।
তিনি জানান, মাহমুদুল হক আগেও রংপুরে অটোচালক মানিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হন এবং আরেক মামলায় নাম না থাকলেও পরে অভিযোগপত্রে তাঁর নাম যুক্ত করা হয়।
তিনি দাবি করেন, তার স্বামী সবসময়ই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে ফেসবুকে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়:
১. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাহমুদুল হককে সসম্মানে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।
২. মিথ্যা মামলার পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
৩. তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চলবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকাত আলী বলেন, “মামলার তদন্ত ছাড়াই মাহমুদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পরিবারের অভিযোগ, একটা গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে এসব করছে। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জামিনে মুক্তি পেলে তাঁর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”
এদিকে স্থানীয়রাও ছমেস উদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে প্রকৃত তথ্য গোপন করে একটি পরিকল্পিত মামলার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সক্রিয় শিক্ষককে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।



