যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বাঙ্কারে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করে নেতানিয়াহুকে এই চুক্তি সম্পন্নের খবর জানান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর বরাতে জানা গেছে, ফোনালাপে ট্রাম্প বৈরুতে ইসরায়েলের আগের হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নেতানিয়াহুর কোনো “বিচারবোধ নেই” এবং তারা যৌথভাবে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা কার্যত শেষ।
২০১৫ সালের ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির সময় তীব্র প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও, ট্রাম্পের এই চুক্তির বিরুদ্ধে এবার নেতানিয়াহুকে প্রায় নীরব দেখা গেছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি চুক্তি বা ট্রাম্পের নাম নেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং পরে প্রশ্নের জবাবে কেবল বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সাথে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির অমিল রয়েছে।
তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে অত্যন্ত তীব্র। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ ও ইতামার বেন গভির এই চুক্তিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি মানতে বাধ্য নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালী বেনেত এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটও একে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য একটি দুর্বল ও বিপজ্জনক মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে, যা ইসরায়েলের যুদ্ধ লক্ষ্যগুলোকে পিছিয়ে দিতে পারে। এদিকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আসার আশঙ্কা থাকলেও এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত নয় এবং আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার থাকবে।
সামনে অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সাথে বিজয় যাত্রার যে রাজনৈতিক ছক নেতানিয়াহু এঁকেছিলেন, এই চুক্তির ফলে তা বড় ধাক্কা খেল। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েলিদের আস্থা ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তা সত্ত্বেও, নেতানিয়াহুর শিবির মনে করছে এটি সাময়িক বাধা এবং তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্পের সাথে একান্ত বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



