দেশে বেড়েছে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের চেম্বারগুলোতে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ ভাইরাস জ্বরের পাশাপাশি করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও টাইফয়েডেও অনেক রোগী ভুগছেন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীর ব্যথার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে একজন চিকিৎসক দিনে গড়ে ৪০ জন রোগী দেখেন, বর্তমানে তা বেড়ে ৭০-৮০ জনে পৌঁছেছে।
চিকিৎসকরা জানান, ভাইরাসজনিত জ্বর সাধারণত ৪ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হয় এবং এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। তবে জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গা ব্যথা, গলাব্যথা, সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে শরীর প্রচণ্ড গরম হয়ে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এ সময় ভাইরাস জ্বর বাড়ে। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ যেমন টাইফয়েড ও পেটের অসুখও বেড়েছে।
চিকিৎসা ও করণীয়
• জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া ও শরীর স্পঞ্জ করা
• প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
• বিশ্রামে থাকা ও ভেষজ চা বা উষ্ণ তরল পানীয় গ্রহণ
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা
চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণ ভাইরাস জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে জ্বর যদি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, রাতে বারবার আসে, শরীরে র্যাশ ওঠে, চোখ শুকিয়ে যায় বা খিচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়—তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।



