প্রেমের সম্পর্কগুলোকে আমরা ঐশ্বরিক সম্পর্ক হিসেবেই জানি। যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, যত্ন এবং গভীর আগ্রহ মূল নিয়ামক। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, এই বিষয়গুলো দুর্বল হচ্ছে এবং সম্পর্কে জটিলতা বাড়ছে।
তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বিবাহিতদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বহু জনের প্রতি আকর্ষণের তীব্রতা। এখন প্রশ্ন হলো মানুষ কেন এবং কোন যুক্তিতে একাধিক সংযোগ খুঁজে নেয়?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একাধিক মানুষের প্রতি প্রেম বা আকর্ষণ মানুষের আবেগের জটিলতা ও বৈচিত্র্যেরই প্রতিফলন।
মানুষের মস্তিষ্ক একই সঙ্গে একাধিক আবেগ বহন করতে পারে। একদিকে নিরাপত্তা, অন্যদিকে আকর্ষণ—এই দুই চাহিদা ভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে পূরণ হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্রেমের অনুভূতি তৈরি হয় ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিন নামের রাসায়নিক হরমোনের কারণে।
এগুলো কখনও মানসিক, কখনও শারীরিক, কখনও বৌদ্ধিক টানে সক্রিয় হয়।
আমরা জানি, পৃথিবীর কোন মানুষই পূর্ণাঙ্গ নয়। সবারই কোন না কোন জায়গায় সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতা সবসময় পার্টনারকে তুষ্ট করতে পারেনা। এই অসুন্তষ্টি তাকে অন্য কারও প্রতি প্রলুব্ধ করে যার মধ্যে সে ঐ বিশেষ সীমাবদ্ধতা খুঁজে পায়না। ফলে একই মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কের ভেতর ভিন্নধর্মী প্রেম খুঁজে পেতে পারে।
এখান থেকেই সম্পর্কে জটিলতার শুরু হয়। কখনো তা বিচ্ছেদ কিংবা অপরাধের দিকেও সরে যেতে পারে। যেহেতু এটা আবেগিক এবং নৈতিক বিষয় তাই একজনের প্রতি কমিটেড থেকে অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ বোধ করার বিষয়টি পার্টনার মেনে নিতে পারেনা।
বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের কারণে দ্রুত বহু মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ায় নান্দনিক ছবি, কন্টেন্ট দেখে অনেকেই আকর্ষিত হয়। এই আকর্ষণের ফাঁদই মানুষকে দুর্বল করে।
বহু জনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ নৈতিক দিক থেকে সঠিক নয়। কারণ একজন যখন কারও সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় সে তখন কমিটমেন্টে দৃঢ় থাকে। অন্য সম্পর্কে জড়ানো মানে কমিটমেন্ট ভেঙ্গে ফেলা। যা মোটেই কাম্য নয়।
ফরাসী দার্শনিক সার্ত বলেছেন, ‘মানুষ দু’টি ক্ষেত্রে স্বাধীন নয়। একটি হলো মৃত্যু, অপরটি কমিটমেন্ট।’ কমিটমেন্ট ভাঙ্গা কোনভাবেই কাম্য নয়। সকল ধর্মেই কমিটমেন্ট রক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে।



