দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) ও তাপজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত গরম কেবল অস্বস্তির কারণই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে এই তাপমাত্রার মধ্যে থাকলে ‘হিট এক্সহশন’, মাংসপেশিতে টান বা ‘মাসল ক্র্যাম্প’ এবং এমনকি ‘হিটস্ট্রোকের’ মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখা সবচেয়ে জরুরি। এই সময়ে কিছু খাবার ও পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
অবহেলা নয় যে লক্ষণগুলো
শরীরে অতিরিক্ত তাপের কারণে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে তা হিটস্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে:
- তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব।
- মানসিক বিভ্রান্তি বা খিটখিটে মেজাজ।
- দ্রুত হৃদস্পন্দন ও খিঁচুনি।
- প্রস্রাবের রং অতিরিক্ত গাঢ় হলুদ হওয়া বা জ্ঞান হারানো।
গরমে স্বস্তি দেবে যে ৫ খাবার ও পানীয়
তাপপ্রবাহের এই সময়ে শরীর সতেজ রাখতে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ৫টি খাবার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা:
১. ডাবের পানি: প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের অন্যতম সেরা উৎস হলো ডাবের পানি। এতে থাকা অত্যাবশ্যকীয় খনিজ ও পুষ্টি উপাদান শরীরের পানির ঘাটতি নিমিষেই পূরণ করে এবং শরীরকে তাৎক্ষণিক সতেজতা দেয়।
২. ঘরে তৈরি লেবুর শরবত: গরমে ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস লেবুর শরবতের জুড়ি নেই। সামান্য লবণ মিশিয়ে তৈরি করা লেবুর শরবত শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. ঘোল ও লাচ্ছি: শরীর ঠান্ডা রাখতে ঘোল বা লাচ্ছি খুবই কার্যকর। তবে বাইরের বা রাস্তার পাশের খোলা দোকানের পানীয়তে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়ে বাড়িতে তৈরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘোল বা লাচ্ছি পানের অভ্যাস করুন।
৪. তরমুজ: গ্রীষ্মের এই রসালো ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। এটি খাওয়ার সাথে সাথে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং শরীর দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে।
৫. শসা: শসায় পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় এটি প্রাকৃতিকভাবেই শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের সালাদ, রায়তা কিংবা শুধু মুখে সামান্য লবণ দিয়ে শসা খেলে পানির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়।
তীব্র গরমের এই সময়ে সুস্থ থাকতে চা-কফি বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় পরিহার করে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি এবং এই প্রাকৃতিক খাবারগুলো খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

