Site icon Somoyer Dristy

আইসিসির পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা হলে উদ্ধারে প্রস্তুত বিশেষ বাহিনী: নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বিদেশ সফরের সময় কোনো দেশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে প্রয়োজনে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী উদ্ধার অভিযানে নামতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা নেতানিয়াহু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আইসিসির পরোয়ানা সমর্থনকারী দেশগুলোতেও সফর করতে তার কোনো দ্বিধা নেই। বিদেশ সফর বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি বিবেচনায় রাখেন।

একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী রয়েছে এবং তিনি নিজেও পাঁচ বছর সেই বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বক্তব্যকে অনেকেই প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

নেতানিয়াহু জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি নিউইয়র্ক সফর করবেন এবং আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে সফরসূচি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে। তবে নেতানিয়াহু এ আহ্বানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানান। তিনি মামদানির সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, তিনি বিভাজনমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে মামদানি বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ থেকেই আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের পরোয়ানা বাস্তবায়নের ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নয়; এ দায়িত্ব মার্কিন ফেডারেল সংস্থাগুলোর।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তার গ্রেপ্তারের কোনো আশঙ্কা নেই। দুই নেতার সাম্প্রতিক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহার ব্যবহার, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা, হত্যা, নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের বিষয় উল্লেখ করা হয়। তবে নেতানিয়াহু শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, আইসিসির এ পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট।

এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রায় ৯০ মিনিটের বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু বলেন, এটি ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘সবচেয়ে ভালো আলোচনাগুলোর একটি’। তিনি জানান, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া যাবে না—এ বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

Exit mobile version